কুরআন পাঠের আদব :
শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ শিক্ষার্থীদের ছহীহ তরীকায় ওযূ শিখাবেন। অতঃপর কুরআন তেলাওয়াতের
শুরুতে আ‘ঊযুবিল−া-হি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম ও বিসমিল−া-হির রহমা-নির রহীম বলবে। মাঝে
৫. বুখারী হা/৪৫৩; মুসলিম হা/২৪৮৫; মিশকাত হা/৪৭৮৯।
৮ তাজবীদ শিক্ষা ৮
থামলে পুনরায় বিসমিল−া-হির রহমা-নির রহীম বলে শুরু করবে। তেলাওয়াতের প্রথমে শিক্ষার্থীরা
মনে করবে যে, আমি আল−াহ্র কিতাব পড়তে যাচ্ছি। যিনি আমার সৃষ্টিকর্তা। যার দেওয়া মেধা ও
শক্তির কারণে আমি লেখাপড়া শিখতে পারছি। তিনি আমার সবকিছু শুনছেন ও দেখছেন। তিনি
আমার মনের খবর রাখেন। তাই পবিত্র কুরআন হাতে নেওয়ার সময় আল−াহ্র ভয়ে ভীত হবে।
অতঃপর নিম্নোক্ত আদবগুলি মেনে চলবে।-
(১) বিনা ওযূতে কুরআন স্পর্শ করবে না’ (ইরওয়া হা/১২২)। (২) কিতাব সর্বদা সসম্মানে বুকের
উপরে করে আনবে এবং রিহাল বা অনুরূপ উঁচু কোন পবিত্র বস্তুর উপরে রেখে পড়বে (আবুদাঊদ
হা/৪৪৪৯)। কিতাব মেঝেতে বা বিছানায় পা বরাবর রাখবে না।৬
(৩) গভীর মনোযোগ দিয়ে পাঠ
করবে।৭
(৪) কিতাব খোলা রেখে গল্প করবে না বা উঠে যাবেনা। কিতাব বন্ধ করতে হ’লে পড়ার
স্থানে অন্য একটি কাগজ দিয়ে চিহ্ন দিবে। কখনোই কিতাবের পৃষ্ঠা মুড়াবে না বা অহেতুক দাগ
দিবে না (৫) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও লম্বা-ঢিলা পোষাকে ছেলেরা পাজামা-পাঞ্জাবী ও মাথায় টুপী দিয়ে
এবং মেয়েরা মাথায় ওড়না সহ সারা দেহ ঢিলা পোষাকে নিম্নমুখী হয়ে পৃথক স্থানে পর্দার মধ্যে বসে
একমনে কিতাব পড়বে (৬) দরায গলায় স্বাভাবিক সুন্দর কণ্ঠে থেমে থেমে ধীর-স্থিরভাবে
তেলাওয়াত করবে (মুযযাম্মিল ৪)। রাসূলুল−াহ (ছাঃ) প্রতিটি হরফ যথার্থরূপে স্পষ্টভাবে পড়তেন।৮
তিনি সূরা ফাতিহার প্রতিটি আয়াতের শেষে থামতেন’।৯
তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বর
দ্বারা কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত কর। কেননা সুন্দর কণ্ঠ কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে’।১০ (৬)
নিজস্ব সুরে তেলাওয়াত করবে। কোনরূপ ভান করবে না বা কৃত্রিম সুরলহরী সৃষ্টি করবে না।
কেননা এর মধ্যে রিয়া ও শ্র“তি প্রকাশ পায়। যা সকল নেকীকে বরবাদ করে দেয়। রাসূলুল−াহ
(ছাঃ) বলেন, সরবে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে ছাদাক্বা দানকারীর ন্যায়। আর নীরবে পাঠকারী
গোপনে দানকারীর ন্যায়’।১১ (৭) তেলাওয়াতের ন্যায় লেখাতেও স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও সরলতা
থাকবে। যাতে সহজে তা পাঠ করা যায়। কুরআন দিয়ে ক্যালিগ্রাফী বা চারুলিপি করা উক্ত
সরলতার বিরোধী। তাছাড়া অনেক সময় এগুলি সম্মান হানিকর হয়। অতএব এসব থেকে বিরত
থাকা আবশ্যক।