মানুষের সার্বিক জীবনকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে পরিচালনার গভীর প্রেরণাই হ’ল আহলেহাদীছ আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি। পরকালীন মুক্তির চেতনার উপরেই এই ভিত্তি স্থাপিত। আর এই চেতনা থেকেই মুমিন ব্যক্তি পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের অনুসারী হয়ে জান-মাল উৎসর্গ করতে প্রস্ত্তত হয়ে যান। অন্যকেও এই মহান আন্দোলনে শরীক করার জন্য পাগলপরা হয়ে উঠেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ)-এর সন্তুষ্টির বিনিময়ে দুনিয়ার সবকিছুকে তিনি তুচ্ছ জ্ঞান করেন।
Share:
SKU:SBHFB-54
Category:হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
Tags:N/A
আদম (আঃ) হ’তে মুহাম্মাদ (ছাঃ) পর্যন্ত লক্ষাধিক নবী ও রাসূল তাই যুগে যুগে মানব জাতিকে আল্লাহর আইন অনুযায়ী সমাজ পরিচালনার আহবান জানিয়ে গেছেন। যেহেতু আইন মান্য করার প্রধান শর্ত হ’ল আনুগত্য, সেকারণ আল্লাহর নবীগণ সর্বাগ্রে মানবজাতিকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন। দুর্ভাগ্য এই যে, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন এলাহী ধর্মের অনুসারী হবার দাবীদার হ’লেও বলা চলে যে, প্রায় সকলেই বিশেষতঃ মুসলিমগণ ইসলাম ধর্মের সামাজিক ও বৈষয়িক দিককে অগ্রাহ্য করে চলেছেন। ধর্মীয় দিকেও ঘটিয়েছেন কমবেশী বিকৃতি। বৈষয়িক স্বার্থদ্বন্দ্ব এবং আক্বীদাগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ফাঁক-ফোকর দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক স্থায়ী ফিক্বহী ও উছূলী ফের্কাবন্দী। কুরআন ও সুন্নাহর পবিত্র সলিলে প্রকারান্তরে নিজেদের রায় ও দৃষ্টিভঙ্গিই মিশ্রিত হয়েছে ও তা প্রাধান্য পেয়েছে জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে।
বর্তমান যুগের মুসলিম নেতৃবৃন্দ ইসলামের বৈষয়িক দিকটিকে বাদ দিয়ে সেখানে নিজেদের স্বার্থদুষ্ট সিদ্ধান্ত সমূহ আইনের নামে জনগণের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি ধর্মীয় দিকটিকেও একদল আলেম নিজেদের মনের মত করে তৈরী করে নিয়েছেন। এভাবে ক্রমেই মুসলিম সমাজ এগিয়ে চলেছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে যেখানে তিনি বলেছেন যে, ‘আমার উম্মতের উপর অবশ্যই অনুরূপ অবস্থা আসবে, যেরূপ এসেছিল বনু ইস্রাঈলের উপর একজোড়া জুতার পারস্পরিক সামঞ্জস্যের ন্যায় ...’।[1]
১ম শতাব্দী হিজরীর প্রথম ভাগে তৃতীয় খলীফা হযরত ওছমান (২৩-৩৫ হিঃ) ও চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (৩৫-৪১ হিঃ) রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমার সময়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে মুসলমানদের মধ্যে আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল বিদ‘আহ নামে দু’টি ধারার সৃষ্টি হয়। যার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভাঙ্গনের সূত্রপাত হয়। অতঃপর তৃতীয় শতাব্দী হিজরীর শেষদিকে এসে ‘আহলুল হাদীছ’ ও ‘আহলুর রায়’ নামে আহলে সুন্নাত বিদ্বানগণ স্পষ্টতঃ দু’দলে বিভক্ত হয়ে যান। আহলুল হাদীছগণ তাদের সকল আদেশ-নিষেধের ভিত্তি রাখেন সরাসরি কুরআন ও ছহীহ হাদীছের উপরে। পক্ষান্তরে আহলুর রায়গণ ভিত্তি রাখেন তাঁদের রচিত বিভিন্ন ফিক্বহী মূলনীতি বা উছূলে ফিক্বহের উপরে। উছূল বা আইনসূত্র সমূহের আলোকে রায়পন্থী ফক্বীহগণ কুরআন-হাদীছের ব্যাখ্যা দিতে থাকেন। উছূলের প্রতিকূলে কোন ছহীহ হাদীছ প্রাপ্ত হ’লে তাঁরা উক্ত হাদীছ প্রত্যাখ্যান করেন বা দূরতম ব্যাখ্যা (তাবীল) করেন, যা মূলতঃ অপব্যাখ্যার শামিল। এভাবে উক্ত দু’দলের ইবাদত ও মু‘আমালাত তথা আক্বীদা ও আমলে ঘটে যায় ব্যাপক তারতম্য।