মানুষকে আল−াহ জ্ঞানসম্পন্ন প্রাণী হিসাবে সৃষ্টি করে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন।
সেই সাথে তার জ্ঞানের পরীক্ষার জন্য ইবলীসকে পাঠিয়েছেন। তাকে অনুমতি
ও ক্ষমতা দিয়েছেন বিভিন্ন যুক্তিতর্কে ও প্রলোভনে মানুষকে তার সুস্থ জ্ঞান ও
বিবেক থেকে বিভ্রান্ত করতে। বান্দা যেন শয়তানের ফাঁদে পড়ে বিপথে না
যায় সেজন্য আল−াহ দয়া করে যুগে যুগে নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে তাঁর
হেদায়াত সমূহ প্রেরণ করেছেন। যারা তার অনুসরণ করবে তারা সুপথে
থাকবে। আর যারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারা শয়তানের তাবেদার
হবে। মূলতঃ এটাই হ’ল পরীক্ষা। এর মাধ্যমেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত
হবে এবং পরকালে জান্নাত-জাহান্নাম নির্দিষ্ট হবে। আল−াহ্র দেখানো পথ হ’ল
ছিরাতে মুস্তাক্বীম বা সরল পথ। যাকে হাদীছে ‘উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ’১
তথা আলোর
পথ বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে শয়তানের পথকে কুরআনে ‘জাহেলিয়াত’ ও
‘যুলুমাত’২
অর্থাৎ মূর্খতা ও অন্ধকারের পথ বলা হয়েছে। রাসূলুল−াহ (ছাঃ)
বলেন, আল−াহ তা‘আলা ছিরাতে মুস্তাক্বীমের একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন।
যেমন একটি সোজা রাস্তা, যার দু’পাশে খাড়া প্রাচীর রয়েছে। তাতে খোলা
দরজা সমূহ রয়েছে। যাতে পর্দা ঝুলানো আছে। রাস্তার মাথায় একজন
আহŸানকারী আছেন, যিনি লোকদের ডেকে বলছেন, তোমরা সোজা পথ ধরে
এসো, আঁকাবাঁকা পথে নয়। তার উপরে আরেকজন আহŸানকারী আছেন যে
সর্বদা তাকে আহŸান করে। যখনই বান্দা ডান-বামের দরজা খুলতে চেষ্টা
করে, তখনই তাকে ডাক দিয়ে বলে, সর্বনাশ দরজা খুলো না। কেননা
একবার খুললেই তুমি তাতে ঢুকে পড়বে