সমাজ পরিবর্তনের স্থায়ী কর্মসূচীالحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبيّ بعده وعلى آله
وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلي يوم الدين وبعد
সমাজ সুন্দর না হ’লে মানুষ সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে না। পরিবার ও পরিবেশের প্রভাবে মানুষ প্রভাবিত হয়ে থাকে। শয়তান প্রতিনিয়ত সমাজ দূষণে রত থাকে এবং মানুষকে তার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে। শেষনবী হযরত মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আগমনের পূর্বে মক্কাসহ তৎকালীন বিশ্ব সমাজ মনুষ্যত্বহীনতার জাহেলিয়াতে ডুবে ছিল। মানুষ নিজ হাতে নিজের মনুষ্যত্ব হননে লিপ্ত ছিল। আল্লাহ পাক স্বীয় অনুগ্রহে তাদের মধ্য থেকেই একজনকে বাছাই করে ‘শেষনবী’ হিসাবে প্রেরণ করেন (আলে ইমরান ৩/১৬৪)। যার মাধ্যমে তিনি পথহারা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু তাঁর ও তাঁর খুলাফায়ে রাশেদীনের মৃত্যুর পর মুসলিম উম্মাহ পুনরায় ফেলে আসা জাহেলিয়াতের দিকে ফিরে যেতে থাকে। বর্তমানে যা চরম অবস্থায় পৌঁছে গেছে। আধুনিক জাহেলিয়াতের ভদ্র লেবাসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিয়ত মানবতা পর্যুদস্ত হচ্ছে। যাতে যেকোন মুহূর্তে বিশ্ব ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে। এই পতিত অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে সেই পথে, যে পথের মাধ্যমে জাহেলী আরবের মানুষ প্রকৃত মানুষে পরিণত হয়েছিলেন এবং তারা বিশ্বনেতার আসনে সমাসীন হয়েছিলেন।
শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) তরবারী নিয়ে আগমন করেননি বা কোন দো‘আ-তাবীয দিয়ে সমাজ সংশোধন করেননি। তিনি এসেছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি দ্বীন নিয়ে। যার মাধ্যমে তিনি মানুষকে শয়তানের দাসত্ব হ’তে আল্লাহর দাসত্বে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে যে মানুষ একদিন অন্য মানুষের রক্তখেকো ছিল, সেই মানুষ মুহূর্তের মধ্যে তার জীবন রক্ষাকারীতে পরিণত হয়। যে মানুষ একদিন অন্য মানুষের পূজা দিত, সে মানুষ পরস্পরে ভাই হয়ে যায়। নারীর ইযযত হরণে উদ্যত যুবক তার ইযযত রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্ত্তত হয়ে যায়। সেই শাশ্বত দ্বীন ও চিরন্তন আদর্শ কি ছিল, আল্লাহ নিজ ভাষায় তা বর্ণনা করেছেন।-
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلاَلٍ مُبِينٍ- وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ-
‘তিনিই সেই সত্তা যিনি নিরক্ষরদের মধ্যে তাদের একজনকে রাসূল হিসাবে পাঠিয়েছেন। যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াত সমূহ পাঠ করেন ও তাদেরকে পবিত্র করেন। আর তাদেরকে কিতাব ও সুন্নাহ শিক্ষা দেন। যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল’। ‘আর তাদের মধ্যকার অন্যান্যদের জন্যেও যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। বস্ত্ততঃ আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়’
(জুম‘আহ ৬২/২-৩)।