একই ভাষাভাষী ও একই বঙ্গীয় বদ্বীপ অঞ্চলের শরীক পশ্চিমবঙ্গ হ’তে পূর্ব বঙ্গ পৃথক হয়ে পাকিস্তানের স্বাধীন রাষ্ট্রসত্তায় মিশে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক মানচিত্রের উপরে বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশ কায়েম হওয়ার মূল আদর্শিক প্রেরণা‘ইসলাম’। বর্ণভেদ প্রথার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ হিন্দু সমাজ ও ব্রাক্ষণ্যবাদী হিন্দু রাজাদের অবর্ণনীয় শোষণ ও নিপীড়নে জর্জরিত এতদঞ্চলের সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনগণ প্রথমতঃ আরব বণিকদের মাধ্যমে প্রচারিত ইসলামের উদার ও সাম্য নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করার ফলে এদেশের মুসলিম জনগণের সংখ্যা শনৈঃশনৈঃ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তারও বহু পরে আফগান বীর ইখতিয়ারুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজীর নেতৃত্বে ৬০২ হিজরী মোতাবেক ১২০৬ খৃষ্টাব্দে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ইসলামের সামরিক ও রাজনৈতিক বিজয় ঘটে এবং ব্রাক্ষণ্যবাদী শাসনের অবসান হয়। সেই থেকে এদেশ আফগান, পাঠান, মোগল, আরবী, ইরানী, সুন্নী, শী‘আ প্রভৃতি স্বাধীন মুসলিম সালত্বানাতের অধীনে শাসিত হয়। পরবর্তীতে ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে তুর্কী শী‘আ অবাংগালী স্বাধীন দেশপ্রেমিক নওয়াব সিরাজুদ্দৌলার পতনের পর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৯০ বৎসর বঙ্গদেশ মূলতঃ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তথা খৃষ্টান ইংরেজ শাসনাধীনে থাকলেও এদেশের ইসলামী চেতনা বিনষ্ট করতে পারেনি। ফলে দ্বি-জাতি তত্ত্বের (Two nation theory) ভিত্তিতে ইসলামের স্বাধীন আবাসভূমি হিসাবে পূর্ব বঙ্গ স্বাধীন পাকিস্তানের অঙ্গ হিসাবে পরিগণিত হয়। ছিল
Share:
SKU:SBHFB-35
Category:হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
Tags:N/A
সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন পাকিস্তানের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ইহুদী-খৃষ্টান ও ব্রাক্ষণ্যবাদী চক্র প্রথম থেকেই সুনযরে দেখেনি। তাই চক্রান্ত অব্যাহত থাকে। একখানা আস্ত রুটি একত্রে গিলে খাওয়া সম্ভব নয়। অতএব তাকে ছিঁড়ে দু’টুকরা করার ষড়যন্ত্র হ’ল। মিঃ গান্ধী এক সময় ভারতবর্ষে রাজনৈতিক ঐক্য রক্ষার জন্য বলেছিলেন, We are first Indian, then we are Hindu or Muslim. অর্থাৎ ‘আমরা প্রথমে ভারতীয় অতঃপর হিন্দু অথবা মুসলিম’। তার উত্তরে এককালে ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের অগ্রদূত’ বলে খ্যাত প্রথমে কংগ্রেস ও পরে মুসলিম লীগ নেতা কুশাগ্রবুদ্ধি রাজনীতিক কায়েদে আযম মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ (জন্ম : ২৫শে ডিসেম্বর ১৮৭৬ইং, মৃঃ ১১ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৮) দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছিলেন, We are first Muslim, then we are Indian. ‘আমরা প্রথমে মুসলিম অতঃপর ভারতীয়’। কায়েদে আযমের মুখ দিয়ে উপমহাদেশের কোটি কোটি মুসলিম জনসাধারণের হৃদয়ে মণিকোঠায় লালিত আপোষহীন ইসলামী চেতনা ও স্বাতন্ত্র্যের কথাই সেদিন বিঘোষিত হয়েছিল। শুধুমাত্র ইসলামের স্বার্থেই একটি স্বাধীন দেশের জন্মলাভ আধুনিক পৃথিবীতে সম্ভবতঃ একটি অতুলনীয় ঘটনা ছিল। মুসলিম উম্মাহ তো বটেই, সমগ্র পৃথিবী গভীর বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তানের অগ্রযাত্রার পানে। কিন্তু না। কুচক্রী ইংরেজ এদেশ থেকে পাততাড়ি গুটানোর সময় তার হাতে গড়া ক্রীড়নক অমুসলিম কাদিয়ানী যাফরুল্লাহ খানকে করে গেল ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরে আইনমন্ত্রী। ফলে দেশের মূল হৃৎপিন্ডে ক্যান্সার হ’ল। ওদিকে মুসলিম এলাকা কাশ্মীরকে করে গেল দ্বিধাবিভক্ত; যাতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্থায়ীভাবে রক্ত ঝরার ব্যবস্থা হয়। তাদের দূরদর্শী পরিকল্পনা স্বার্থক হয়েছে। পাকিস্তানী শাসনযন্ত্র কখনই কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী চলেনি। সেখানে কুরআন-সুন্নাহর শ্লোগান উচ্চারিত হয়েছে। এই নামে জনগণের ভোট আদায় করা হয়েছে। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহতে পারদর্শী কোন আলেম বা কুরআন-সুন্নাহর সনিষ্ঠ অনুসারী কোন যোগ্য ব্যক্তিকে কখনই পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। পরিণাম স্বরূপ পাকিস্তান তার ঐক্য রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
আজ পাকিস্তান বিভক্ত হয়েছে এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভূখন্ডগত কোন মিল ছিল না। আড়াই হাযার মাইল দূরত্বের দু’টি ভূখন্ডকে এক করে রেখেছিল শুধুমাত্র একটি আদর্শ- ‘ইসলাম’। আর কিছুই নয়। শাসকরা যখন সেই মূল সূত্রটিকেই দুর্বল করলেন ও সেই সাথে চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করলেন, তখন আর ঐক্য টিকিয়ে রাখার কোন সূত্র বাকী রইল না।