বিদ‘আতের পরিণাম
(১) হযরত আয়েশা(রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,
مَنْ اَحْدَثَ فِى اَمْرِنَا هذا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ- مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ-
‘যে ব্যক্তি আমাদের শরী‘আতে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’।[1]
(২) হযরত ইরবায বিন সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহ বলেন,
صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ، فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَأَوْصِنَا، فَقَالَ : أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ كَانَ عَبْداً حَبَشِيًّا، فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِى فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِى وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ- وَفِى رِوَايَةٍ لِلنَّسَائِىِّ : وَكُلَّ ضَلاَلَةٍ فِى النَّارِ-
‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে একদিন (ফজরের) ছালাত পড়ালেন। অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন। অতঃপর আমাদেরকে সারগর্ভ উপদেশ প্রদান করলেন। যাতে চক্ষুসমূহ সজল হয়ে উঠল এবং হৃদয় সমূহ ভীত-কম্পিত হ’ল। তখন একজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি কোন বিদায় গ্রহণকারীর অন্তিম উপদেশ। অতএব আপনি আমাদেরকে আরও উপদেশ দিন। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীরুতার উপদেশ দিচ্ছি। আর তোমরা আমীরের আদেশ শ্রবণ করবে ও তাকে মান্য করবে। যদিও তিনি হাবশী গোলাম হন। কেননা আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা বহু মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের উপর অবশ্য পালনীয় হবে আমার সুন্নাত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অনুসরণ করা। তোমরা তা কঠিনভাবে অাঁকড়ে ধরবে ও মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে। আর তোমরা ধর্মের নামে নতুন নতুন সৃষ্টি হ’তে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই বিদ‘আত ও প্রত্যেক বিদ‘আতই গ আর প্রত্যেক গোমরাহীর পরিণাম জাহান্নাম’।[3]
একই রাবী থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে,قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لاَ يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِى إِلاَّ هَالِكٌ، مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ... ‘আমি তোমাদেরকে স্বচ্ছ দ্বীনের উপর ছেড়ে যাচ্ছি। যার রাত্রি হ’ল দিবসের মত। আমার পরে যারা তা থেকে পথভ্রষ্ট হবে, তারা ধ্বংস হবে। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে...’।[
খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত মূলতঃ রাসূলেরই সুন্নাত। কারণ তাঁরা কখনোই রাসূল (ছাঃ)-এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদনের বাইরে কোন কাজ করতেন না। যুগে যুগে বৈষয়িক প্রয়োজনে সৃষ্ট বিভিন্ন আবিষ্কার সমূহ যেমন সাইকেল, ঘড়ি, চশমা, মটরগাড়ী, রেলগাড়ী, উড়োজাহায, টেলিফোন-মোবাইল ইত্যাদি বস্ত্তসমূহ আভিধানিক অর্থে বিদ‘আত বা নতুন সৃষ্টি হ’লেও শারঈ অর্থে কখনোই বিদ‘আত নয়। তাই এগুলিকে গুনাহের বস্ত্ত মনে করা অন্যায়। অনেকে এগুলিকে অজুহাত করে ধর্মের নামে সৃষ্ট মীলাদ-ক্বিয়াম, শবে মে‘রাজ, শবেবরাত, কুলখানি, চেহলাম ইত্যাদিকে শরী‘আতে বৈধ এবং ‘বিদ‘আতে হাসানাহ’ বলে থাকেন, যেটা আরো অন্যায়। বরং বিদ‘আতকে হাসানাহ ও সাইয়েআহ তথা ভাল ও মন্দ দু’ভাগে ভাগ করাই আরেকটি বিদ‘আত।
4]োমরাহী’।[2]ু)))