ইসলামী সমাজ বিপ্লবের আবশ্যিক পূর্বশর্ত
ইসলামী সমাজ বিপ্লবের আবশ্যিক পূর্বশর্ত
(الشروط اللازمة للثورة الاجةماعية الإسلامية)
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সমস্যা সমূহের গোড়া ধরেই টান দিলেন এবং স্থায়ী সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে আক্বীদা পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করলেন। সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুটিকয়েক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভু যেভাবে স্বাধীন মানুষকে নিজেদের গোলামে পরিণত করেছিল, সেই ছিনতাইকৃত সার্বভৌম ক্ষমতা নিরংকুশভাবে তিনি কেবলমাত্র আল্লাহর নিকট সোপর্দ করার আহবান জানালেন। ঘোষণা করলেন- لاَ إِلَهَ إِلاَّ ا ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’। ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই’। আল্লাহর দাসত্বের অধীনে সকল মানুষ স্বাধীন ও সকল মানুষের অধিকার সমান। বলা বাহুল্য লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহর এই কালেমা সেদিন কেবল শ্লোগান মাত্র ছিল না। বরং এ ছিল সর্বাত্মক সমাজ বিপ্লবের উদাত্ত ঘোষণা।
আরবরা আল্লাহ্কে জীবন-মৃত্যুর মালিক হিসাবে, সন্তানদাতা হিসাবে, রূযীদাতা হিসাবে মানতো। অনেকে আখেরাতে জওয়াবদিহিতায় বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু জীবনের সর্বক্ষেত্রে ঐ একই হেদায়াতের জ্যোতিধারা থেকে আলো নিতে হবে, এ কথা তারা মানতে রাযী ছিল না। তারা ভাবতো এসব ক্ষেত্রে আমরাই ইলাহ। তারা এসকল ক্ষেত্রের সার্বভৌম ক্ষমতা আল্লাহর নিকট সোপর্দ করতে সম্মত হ’ল না। ফলে শুরু হ’ল ইসলাম ও জাহেলিয়াতের সরাসরি দ্বন্দ্ব।
জাহেলিয়াতের শিখন্ডীরা আল্লাহর নবী (ছাঃ)-কে নেতৃত্বের টোপ দিল। অর্থ-সম্পদের লোভ দেখাল। আরও অন্যান্য লোভনীয় প্রস্তাব দিল। কিন্তু তিনি টললেন না। সমস্ত নিন্দা-অপবাদ ও বাধার ঝঞ্ঝাবাত সহ্য করে দৃঢ় হিমাদ্রির ন্যায় তিনি সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আক্বীদা সংশোধনের আন্দোলন চালাতে থাকলেন। ফলে দীর্ঘ তের বৎসরের মাক্কী জীবনে তৈরী হ’লেন এমন কিছু মর্দে মুজাহিদ তাযা সৈনিক, যারা সমাজ পরিবর্তনের কঠিন জিহাদে প্রত্যয়দৃঢ় সংকল্প নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। যারা শুধু রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সাময়িক কোন সমস্যা নিয়ে নয় বরং সর্বাত্মক সমাজ বিপ্লবের চূড়ান্ত লক্ষ্যে ধীর অথচ দৃঢ় পদে এগিয়ে যেতে পারেন।
للهُ