আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এক বিক্রয়ের মধ্যে দুই বিক্রয় নিষেধ করেছেন’।[1] অর্থাৎ এক ব্যবসায়ে দুই ধরনের বিক্রয়।
ইমাম তিরমিযী বলেন, এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ বিন আমর, আব্দুল্লাহ বিন ওমর ও আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ থেকে হাদীছ রয়েছে। আবু হুরায়রা বর্ণিত অত্র হাদীছ ‘হাসান ছহীহ’। এর উপরে আমল রয়েছে বিদ্বানগণের মধ্যে। কোন কোন বিদ্বান ব্যাখ্যা করেছেন, ‘এক বিক্রয়ে দুই বিক্রি নিষিদ্ধ’ অর্থ যেমন কেউ বলল, আমি তোমার নিকট কাপড়টি বিক্রি করলাম নগদে ১০ টাকায় এবং বাকীতে ২০ টাকায়। অতঃপর তারা যদি কোন একটির উপর সিদ্ধান্ত নিয়ে পৃথক হয়, তাহ’লে তাতে কোন দোষ নেই’।
Share:
SKU:SBHFB-20
Category:হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
Tags:N/A
আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন। কিন্তু মক্কার নেতারা ব্যবসা ও সূদের পার্থক্য না বুঝে বলেছিল, إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ‘ব্যবসা তো সূদেরই মতো’ (বাক্বারাহ ২/২৭৫)। কেননা মালের বিনিময়ে টাকা পেলে যদি ব্যবসা হয়, তবে টাকার বিনিময়ে টাকা পেলে সেটা সূদ হবে কেন? দু’টি তো সমানই। অথচ মাল বেচা-কেনায় সম্পদের প্রবৃদ্ধি হয়। নিত্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। অর্থনীতির চাকা গতিশীল হয়। সমাজের সর্বত্র সম্পদের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে টাকা কোন সম্পদ নয়। বরং সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের একটা মাধ্যম মাত্র। যার নিজস্ব কোন মূল্য নেই। এই মৌলিক পার্থক্য না বুঝে শয়তানী কুমন্ত্রণায় পড়ে আমরা ব্যবসায়ের নামে অনেক ক্ষেত্রে সূদী কারবার করে চলেছি। যার অন্যতম হ’ল বায়‘এ মুআজ্জাল(البيع المؤجل)। যার অর্থ বাকীতে অধিক মূল্য আদায়ের ব্যবসা। অর্থাৎ একটা বস্ত্ত নগদে কিনলে কম দাম এবং বাকীতে কিনলে বেশী দাম। চাই সেটা কিস্তিতে হৌক বা এক সাথে হৌক। এটা তো পরিষ্কার সূদ। কেউ নগদে ১০০ টাকা ঋণ নিলে এবং পরবর্তীতে কিস্তিতে বা একসাথে ঋণ পরিশোধের সময় টাকা বেশী দিলে সেটা সূদ হয়। এতে কোন মতভেদ নেই। তাহ’লে মাল বিক্রির সময় নগদে একদাম ও বাকীতে বেশী দাম নিলে সেটা সূদ হবে না কেন? অথচ ব্যবসার নামে এটাই এখন চলছে সর্বত্র। ব্যাংক ও এনজিও ঋণের সূদের কিস্তি আদায়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ। তাছাড়া একে ভিত্তি করে চালু হয়েছে আরও বহু কিছু অন্যায় প্রথা। ফলাফল দাঁড়িয়েছে এই যে, সর্বশেষ হিসাব মতে পৃথিবীর ৯৯ ভাগ মানুষের সম্পদ এক ভাগ মানুষের হাতে জমা হয়েছে। এমনকি মর্মান্তিক খবর এই যে, মাত্র ৮ জন মানুষের হাতে এই সম্পদ রয়েছে। একেই আমরা বলছি, অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি বা গণতান্ত্রিক অর্থনীতি। যা স্রেফ প্রতারণা বৈ কিছুই নয়। এই রাক্ষুসী অর্থনীতির হাত থেকে বাঁচতে চাইলে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রেরিত ইসলামী অর্থনীতির কাছে মাথা নত করতেই হবে। এর কোন বিকল্প নেই।