আক্বীদা
العقيدة
১- আহলেহাদীছগণ (১) আল্লাহর উপরে (২) তাঁর ফিরিশতাগণের উপরে (৩) আল্লাহ প্রেরিত কিতাব সমূহের উপরে (৪) রাসূলগণের উপরে (৫) বিচার দিবসের উপরে এবং (৬) তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপরে ঈমান পোষণ করেন।
ব্যাখ্যা: (১) আল্লাহর উপর ঈমান : পারিভাষিক অর্থে আহলেহাদীছের নিকটে ‘ঈমান’ হ’ল হৃদয়ে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি ও কর্মে বাস্তবায়নের সমন্বিত নাম। যা আনুগত্যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় ও গোনাহে হ্রাসপ্রাপ্ত হয়। বিশ্বাস ও স্বীকৃতি হ’ল মূল এবং কর্ম হ’ল শাখা।[1] যেটা না থাকলে পূর্ণ মুমিন হওয়া যায় না।
খারেজীগণ তিনটি বিষয়কেই ঈমানের মূল হিসাবে গণ্য করেন। সেকারণ কবীরা গোনাহগার ব্যক্তি তাদের মতে কাফের ও চিরস্থায়ী জাহান্নামী এবং তাদের রক্ত হালাল। মুরজিয়াগণ বিশ্বাস ও স্বীকৃতিকেই ‘ঈমান’ বলেন। ‘কর্ম’ ঈমানের অংশ নয়। সেকারণ কবীরা গোনাহগার ব্যক্তি তাদের নিকট পূর্ণ ঈমানদার। আমলহীন শৈথিল্যবাদী মুসলমানগণের অধিকাংশ নামে-বেনামে এই দলভূক্ত। পক্ষান্তরে খারেজী আক্বীদার অনুসারীরা চরমপন্থী হয়ে থাকেন। উক্ত দুই কট্টর ও শৈথিল্যবাদী আক্বীদার মধ্যপন্থী হ’ল আহলেহাদীছের আক্বীদা। এই আক্বীদার অনুসারীগণ কবীরা গোনাহগার ব্যক্তিকে কাফের বলেন না। বরং ফাসেক বা ত্রুটিপূর্ণ ঈমানদার বলেন। তারা কবীরা গোনাহকে ঘৃণা করেন ও তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করেন এবং পূর্ণ ঈমানদার হওয়ার জন্য সৎকর্ম সম্পাদনকে আবশ্যিক গণ্য করেন।
মুরজিয়াদের বারোটি উপদলের মধ্যে কার্রামিয়াগণ বিশ্বাস ও আমল ছাড়াই কেবল মুখে ‘স্বীকৃতি’ ঈমানের জন্য যথেষ্ট মনে করেন। সাধারণ মুরজিয়াগণ ‘বিশ্বাস ও স্বীকৃতি’কেই ঈমান বলে থাকেন। ইমাম আবু হানীফা ও কিছু সংখ্যক ফক্বীহ ‘আমল’কে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেননি রবং ‘ঈমানের বাস্তব পদ্ধতি’(شرائع الإيمان) বলে মনে করেন।
আহলেহাদীছগণ আল্লাহর উপরে ঈমান রাখেন ‘রব’ হিসাবে, একক ‘ইলাহ’ হিসাবে, তাঁর অনন্য নাম ও গুণাবলী সহকারে, যা মাখলূকের নাম ও গুণাবলীর সাথে তুলনীয় নয়। এই নির্ভেজাল একত্ববাদকেই বলা হয় ‘তাওহীদ’, যাকে তিনভাগে ব্যাখ্যা করা চলে। যথা : (১) তাওহীদে রবূবিয়াত (ةوحيد الربوبية) : সৃষ্টি ও পালনে আল্লাহর একত্ব (২) তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাত (توحيد الأسماء والصفات) : নাম ও গুণাবলীর একত্ব (৩) তাওহীদে ইবাদাত ও উলূহিয়াত (ةوحيد العبادة أو الألوهية) : ইবাদত বা উপাসনায় একত্ব।