বিগব্যাঙ থিওরী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দু’টি মহাসত্য আত্মপ্রকাশ করে। যার প্রথমটি হ’ল আদি মহাবিশ্ব মূলতঃ শূন্য হ’তে সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বে যার কোন অস্তিত্ব ছিল না। দ্বিতীয়তঃ অতীন্দ্রিয় কোন মহা শক্তিশালী ও মহাবিজ্ঞ অদৃশ্য সত্তার মাধ্যমেই কেবল এটি সম্ভব হয়েছে’। নিঃসন্দেহে তিনিই হ’লেন ‘আল্লাহ’। যিনি এক ও অমুখাপেক্ষী। যাঁর কোন শরীক নেই। আল্লাহ বলেন, قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ- اللهُ الصَّمَدُ- لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ- وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ- ‘বল, তিনি আল্লা(১)। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (২)। তিনি (কাউকে) জন্ম দেননি এবং তিনি (কারও) জন্মিত নন (৩)। তাঁর সমতুল্য কেউ নেই’ (ইখলাছ ১১২/১-৪)।
আমাদেরকে গল্প শুনিয়ে বিশ্বাস করানো হয় যে, বিশ্বলোকসহ আমরা যারা মহাশূন্যে আনুমানিক ৬৬০০ বিলিয়ন টন ওজনের ঝুলন্ত এই পৃথিবীর বাসিন্দা, সবাই এক্সিডেন্টের সৃষ্টি। ছোটবেলায় দাদী-নানীর কোলে বসে রূপকথার কাহিনী শুনতাম। জিনের আত্মাটা নাকি ছোট্ট কৌটার মধ্যে আটকিয়ে পুকুরের গভীরে কাদার মধ্যে পুঁতে রাখা হ’ত। অতঃপর জিনকে দিয়ে যা খুশী করানো হ’ত। আমাদের বিশ্বাসকেও অনুরূপ কৌটার মধ্যে ভরে অজ্ঞাত কল্পনার জগতে চালান করে দিয়ে আমাদেরকে নিয়ে খেলছেন একদল মানুষ। যারা দু’ভাগে বিভক্ত।-
একদল যারা আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন। অন্যদল আল্লাহর অস্তিত্বকে স্বীকার করেন। কিন্তু তারা কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না এবং তারা ক্বিয়ামতে বিশ্বাসী নন।
প্রথম দলের বক্তব্য হ’ল : পৃথিবীটা এক্সিডেন্টের সৃষ্টি। আর এটি হ’ল প্রাকৃতিক বিষয়। আর আমরা যা দেখা যায় ও অনুভব করা যায়, তা ব্যতীত অন্য কিছুতে বিশ্বাস করি না। যদি আল্লাহর অস্তিত্ব থাকত, তাহ’লে তিনি নিজে আমাদের সামনে দেখা দিতেন’ যাতে আমরা তাঁর উপর বিশ্বাস আনতে পারি। হ্যাঁ! দূর অতীতে মূসার কওম তাঁর কাছে এরূপ দাবীই করেছিল। ফলে তাদেরকে আল্লাহ সেখানেই ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। পরে মূসার প্রার্থনার ফলে আবার তাদের জীবিত (বাক্বারাহ ২/৫৫। এরা ছিল মূসার কওমের সত্তুরজন শীর্ষ নেতা।
এযুগেও অবিশ্বাসী ও বস্ত্তবাদী নেতারা এরূপ উদ্ভট দাবী করে থাকেন। যদিও কোন সুস্থ জ্ঞানের মানুষ এরূপ দাবী করতে পারে না। এ পৃথিবীতে কোন কর্মই কি কর্তা ব্যতীত সম্পন্ন হচ্ছে? আর যদি প্রকৃতিই পৃথিবীকে সৃষ্টি করে থাকে, তাহ’লে প্রকৃতিকে কে সৃষ্টি করল? তাতে কিভাবে এসব নিয়ম-কানূন তৈরী হ’ল? এজন্যই তো আল্লাহ বলেছেন,أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ؟ ‘তারা কি কোন কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই (নিজেদের) স্রষ্টা?’ (তূর ৫২/। মূলতঃ বস্ত্তবাদীরা তাদের যুক্তিহীন নাস্তিক্যবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদেরকে নৈতিকতার বন্ধন থেকে ও আল্লাহর বিধান সমূহ মান্য করা থেকে মুক্ত রাখতে চান। যেমনটি পরিষ্কারভাবে স্বীকার করেছেন বিবর্তনবাদী ডারউইনের (১৮০৯-১৮৮২) ‘বুলডগ’ (Bull dog) নামে খ্যাত টমাস হেনরি হাক্সলে (১৮২৫-১৮৯৫ খৃ.)।
৩৫)-৫৬)করেছিলেন হ এক